অনলাইন ডেস্ক
বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও চাঁদাবাজি-নৈরাজ্য প্রতিরোধে বাস মালিক ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের।
জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সমন্বয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের দাবি, ওই সময় থেকে টার্মিনালে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয় এবং অনিয়ম-নৈরাজ্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। এতে পরিবহন কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরে আসে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার শ্রমিক সদস্য পরিচয়ে আরজু মৃধা নামে এক যুবক ২০ থেকে ৩০ জন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের চেয়ারে বসে দখলের পায়তারা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে মালিক ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও জানান, আরজু মৃধা প্রকৃতপক্ষে কোনো শ্রমিক নন। শ্রমিক তালিকায় তার নাম ১৩০ নম্বরে রয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। শ্রমিকদের ভাষ্য, তিনি কখনোই নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে টার্মিনালে কাজ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে সমিতিতে এসে চাঁদাবাজির চেষ্টা চালায়। এসব কর্মকাণ্ডে আরজু মৃধা নামে এক ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনও তিনি শ্রমিক ইউনিয়নে এসে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন এবং ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে টার্মিনালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, টার্মিনালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চাঁদাবাজি-নৈরাজ্য প্রতিরোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মালিক ও শ্রমিকদের ঐক্য অটুট থাকলে কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না।”
সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তারা যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বর্তমানে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।